জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের গবেষণা-৩ অধিশাখার উপসচিব শেখ হাফিজুর রহমানকে জনস্বার্থে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপপরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। গত ১ জুলাই জারি হওয়া এ আদেশের পর বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর একাংশের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তে নতুন গতি ফেরার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় দায়িত্ব পালনকালে শেখ হাফিজুর রহমান ব্রির নিয়োগ, পদোন্নতি এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। বিশেষ করে ডিপার্টমেন্টাল প্রমোশন অ্যান্ড সিলেকশন কমিটির (ডিপিসি) কার্যক্রমে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কিছু নিয়োগ ও পদোন্নতিতে বিতর্কিত প্রশাসনিক ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন।
তাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্রির তৎকালীন রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানের সময় কয়েকটি নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সম্পৃক্ততার অভিযোগ বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশ এবং কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হলেও প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে তদন্ত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। ফলে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তি হয়নি।
এদিকে গত ৩ মে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে ব্রির জ্যেষ্ঠতম মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আমিনুল ইসলামকে মহাপরিচালকের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার পরদিন, ৪ মে, ব্রির প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দায়িত্ব গ্রহণে বাধা, কর্মসূচি এবং অচলাবস্থার ঘটনায় কৃষি মন্ত্রণালয় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটিতে যুগ্ম সচিব কামরুল হাসানকে আহ্বায়ক এবং শেখ হাফিজুর রহমানকে সদস্য-সচিব করা হয়। অভিযোগকারী কর্মকর্তাদের দাবি, তদন্তে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় অভিযুক্তরা এতদিন সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন।
শেখ হাফিজুর রহমানের বদলির পর ব্রির একাধিক কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানী আশা প্রকাশ করেছেন, এখন ৩ ও ৪ মে সংঘটিত ঘটনাসহ নিয়োগ, পদোন্নতি এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের সুযোগ সৃষ্টি হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, প্রতিষ্ঠানে সুশাসন, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় এ পরিবর্তন ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
এ বিষয়ে ব্রির সদ্য অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ আলী ছিদ্দিকও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বদলির ঘটনায় অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করছেন এবং এর পেছনের কারণ নিয়ে আলোচনা করছেন।
তবে শেখ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি বা তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।