একসময় শক্তিশালী পায়ে হেঁটে বেড়াত, নিজের স্বাভাবিক আচরণে মুগ্ধ করত দর্শনার্থীদের। সেই হাতি ‘রাজু বাহাদুর’ এখন পড়ে আছে বালুর বিছানায়। ভাঙা দুই পা নিয়ে চলছে তার বেঁচে থাকার লড়াই। গাজীপুরের শ্রীপুরের সাফারি পার্কে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা এই হাতিটির অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন।

গত ২৪ মে হাতিশালায় থাকা অন্য একটি হাতির সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয় ‘রাজু বাহাদুর’। সংঘর্ষের একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে গিয়ে তার সামনের দুই পায়ে আঘাত লাগে। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, দুই পায়েই ফ্র্যাকচার হয়েছে। এরপর থেকেই শুরু হয় তাকে সুস্থ করে তোলার বিশেষ চেষ্টা।

বর্তমানে দাঁড়াতে না পারা হাতিটিকে ক্রেনের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বালুর ওপর বিশেষ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে তাকে। সেখানেই চলছে চিকিৎসা ও পরিচর্যা। শুয়ে থাকা অবস্থায় সামান্য খাবার গ্রহণ করলেও আগের মতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘রাজু বাহাদুর’কে সুস্থ করে তুলতে দেশীয় চিকিৎসকদের পাশাপাশি বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। গঠন করা হয়েছে মেডিকেল বোর্ড। চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকা থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় হাতিটিকে। বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের অভিযানে উদ্ধার হওয়ার পর তাকে গাজীপুর সাফারি পার্কে নিয়ে আসা হয়। উদ্ধারের সময় তার বয়স ছিল প্রায় ৯ বছর। বর্তমানে তার বয়স ১০ বছরের বেশি।

উদ্ধারের পর থেকে পার্কের হাতিশালায় বিশেষ পরিচর্যার মধ্যে ছিল ‘রাজু বাহাদুর’। তবে হাতিদের স্বভাবগত আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ের অংশ হিসেবে ঘটে যাওয়া একটি সংঘর্ষই তাকে ঠেলে দিয়েছে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে। গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তারেক রহমান বলেন, হাতিদের মধ্যে কখনো কখনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এটি তাদের স্বাভাবিক আচরণের অংশ। তবে এবারের ঘটনায় ‘রাজু বাহাদুর’ গুরুতর আহত হয়েছে। তার চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা করা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘হাতিটি বর্তমানে দাঁড়াতে পারছে না। তবে তাকে সুস্থ করে তুলতে চিকিৎসক দল সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা আশা করছি, দীর্ঘ চিকিৎসার পর সে আবার নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে।’