সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের বালিয়াকান্দা এলাকায় এক তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ধানের মিলে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পরে ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে সিরাজদিখান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

ভুক্তভোগী আমেনা আক্তার (২৪) সিরাজদিখান থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানান, তিনি ব্যক্তিগত কারণে বালিয়াকান্দা এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। সেখানে বসবাসের পর থেকেই কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, কুপ্রস্তাব এবং হয়রানি করে আসছিল বলে অভিযোগ করেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত তামিম (১৮) বিভিন্ন মাধ্যমে তার মোবাইল নম্বর ও ফেসবুক আইডি সংগ্রহ করে বারবার কুপ্রস্তাব দেন এবং একাধিকবার তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। বিষয়টি বাড়ির এক সদস্যকে জানালেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তাকে মারধর করা হয়। পরে কয়েকজন মিলে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া, গত ১৭ জুলাই গভীর রাতে তার কক্ষের বাইরে উঁকিঝুঁকি দেওয়ার প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাকে চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, ১৯ জুলাই দুপুরে অভিযুক্তদের একজন প্রকাশ্যে তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি করা টাকা না দিলে তাকে ভাড়া বাসায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মালামাল পুড়িয়ে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। একই সময়ে অপর এক অভিযুক্ত ফোন করেও এক লাখ টাকা দাবি করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঘটনার একপর্যায়ে একই দিন স্থানীয় বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেনের ধানের মিলে তাকে আটকে রেখে মারধর করা হয়। জীবন বাঁচাতে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে সিরাজদিখান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

ভুক্তভোগী জানান, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি সিরাজদিখান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ধানের মিলের মালিক ও স্থানীয় বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন বলেন, "ঘটনার সময় আমি মুন্সীগঞ্জে ছিলাম। একটা খারাপ মেয়েকে মারছে, তাতে কী হয়েছে? আমি বিষয়টি এমপি সাহেবকে জানিয়েছি। দেখি থানায় অভিযোগ দিয়ে কী করে।

এ বিষয়ে সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, "অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।