বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) চলমান নিচতলা সংলগ্ন সড়কের উন্নয়নমূলক কাজের অংশ (ভাগ) দাবি, ঠিকাদারকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংসদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

গত ১১ জুন (২০২৬) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর এই আবেদন জানান ভুক্তভোগী ঠিকাদার আওলাদ হোসেন মনু। তিনি বরিশাল মহানগরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার।

লিখিত অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন— বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমাইন সাকিব ও আরাফাতসহ তাঁদের কয়েকজন অনুসারী।

আবেদনকারী উল্লেখ করেন, গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ই-জিপি (e-GP) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নির্মাণকাজের কার্যাদেশ পান ঠিকাদার আওলাদ হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, কাজ পাওয়ার পর থেকেই ছাত্রদল নেতা আরিফ হোসাইন শান্তর নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী কাজের ভাগ দাবি করে বাধা সৃষ্টি করে আসছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ বন্ধ করে দিয়ে একটি 'পরিকল্পিত মব' (জনতা জড়ো করে বিশৃঙ্খলা) সৃষ্টি করা হয়। পরবর্তীতে দলের ভাবমূর্তি রক্ষা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধে ঠিকাদার আইনি পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকলেও, গত ২৪ মে প্রশাসনিক ভবন-১ এর সামনে রাস্তার ঢালাই কাজ চলাকালে অভিযুক্তরা পুনরায় কাজের ভাগ দাবি করেন।

ঠিকাদার আওলাদ হোসেন মনু অভিযোগে উল্লেখ করেন, "কাজের ভাগ দিতে অস্বীকৃতি জানালে নির্মাণসামগ্রীর মান খারাপের মিথ্যা অজুহাত তুলে আমাকে শারীরিকভাবে মারধর ও হেনস্তা করা হয়। পরে আমি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ও স্থানীয়রা এসে আমাকে উদ্ধার করে।" পরবর্তীতে ল্যাব পরীক্ষায় নির্মাণসামগ্রীর মান সম্পূর্ণ সন্তোষজনক ও 'এ' গ্রেডের প্রমাণিত হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, "শহীদ জিয়ার আদর্শ ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতির প্রতি আস্থা রেখে আমি কেন্দ্রীয় সংসদের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক সাংগঠনিক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছি। বর্তমানে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন।"

এর আগেও ফেসবুকে 'হা হা' রিঅ্যাক্ট দেওয়ায় সহপাঠীকে মারধরের অভিযোগ ছিল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শান্তর বিরুদ্ধে। একই সাথে অভিযুক্ত আরাফাতের বিরুদ্ধে মাছের পোনা ক্রয়ে চাঁদাবাজি এবং ফেসবুকে বিপক্ষে মন্তব্য করায় শিক্ষার্থীকে হুমকির অভিযোগ রয়েছে।

তবে আওলাদ হোসেন মনুর বিরুদ্ধেও ঘুষ প্রদান করে কাজ পাওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী মুরশিদ আবেদিনের সাথে লিয়াজোঁ করে কাজ নেওয়া এবং নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করাসহ নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সেক্রেটারি ও অভিযুক্ত আরিফ হোসেন শান্তর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, "আমার সাথে এসবের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। রাস্তার ওখানে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে, তা পরীক্ষা করলেও আমাকে সেখানে পাওয়া যাবে না।"

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, "শিক্ষার্থীদের কাছে অগ্রহণযোগ্য মনুর মতো ব্যক্তির অভিযোগ কেন্দ্র যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।"