বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, যেকোনো দুর্যোগে আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করি। এবারও আমরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বন্যায় নিহত প্রত্যেক ব্যক্তির পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হবে। আগামী তিন দিনের মধ্যে, ইনশাআল্লাহ, যেসব পরিবারে মৃত্যু ঘটেছে তাদের কাছে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও থানায় প্রবল বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাদ্যসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদান কর্মসূচীতে তিনি এ ঘোষণা দেন।

এর আগে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ডা. শফিকুর রহমান শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানযোগে চট্টগ্রামে পৌঁছে তিনি সরাসরি বন্যাকবলিত বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। বাঁশখালী থেকে তিনি সাতকানিয়া এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে যান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জানি, পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মারা গেলে সেই পরিবার হঠাৎ করেই চরম সংকটে পড়ে। এ ধরনের ছোট ছোট পরিবারগুলোকে সহায়তা করার দায়িত্ব আমাদের সবার। তাই আমরা নিহতদের স্বজনদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মানুষের দুর্ভোগ অত্যন্ত ব্যাপক। অনেক এলাকায় বাঁধ ভেঙে গেছে, বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কৃষিজমির ফসল নষ্ট হয়েছে, পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে, গবাদিপশুরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে এটি একটি ভয়াবহ দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে দ্রুত দুর্গত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হোক এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো হোক। কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম যেন এই ত্রাণ কার্যক্রমকে স্পর্শ করতে না পারে।

বন্যা কবলিত জনগনের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা ধৈর্য ধরুন। সুখে-দুঃখে আমরা আপনাদের পাশে আছি এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকব। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মানুষের সেবা করার তাওফিক দান করুন।

তিনি বলেন, আমরা লুটপাট করে খাওয়ার রাজনীতি করি না। মানুষের বিপদকে কখনো সুযোগ হিসেবে দেখি না। বরং অসহায় মানুষের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াকেই আমরা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য মনে করি।

এ সময় জামায়াতের আমিরের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এমপি, চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপিসহ মহানগরী ও স্থানীয় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।