মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর জামায়াতের সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র প্রার্থী খিজির আহমদ জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন। ২৪ জুন (বুধবার) বিকেলে মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত তার জামিন মঞ্জুর করার পর ওইদিন সন্ধ্যায় তিনি মৌলভীবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজার অতিরিক্ত দায়রা জজ তৃতীয় আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরে বিকেলে তিনি জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, খিজির আহমদের আইনজীবী আদালতে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচারক তা মঞ্জুর করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিকেলে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দলের নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে বড়লেখায় সংঘটিত সহিংসতা ও পুলিশের গুলিতে জামায়াতকর্মী লোকমান আহমদ নিহতের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা একটি রাজনৈতিক হত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছিল।

এদিকে, জামিনে মুক্তির পর বিকেলে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারের প্রধান ফটকে তাকে স্বাগত জানাতে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলী, সহকারী সেক্রেটারি আলাউদ্দিন এবং বড়লেখা উপজেলা জামায়াত ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে বড়লেখায় এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জামায়াত নেতারা বলেন, ‘খিজির আহমদ বড়লেখা পৌরসভার জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে একটি আস্থার নাম। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে দুই বার মেয়র প্রার্থী হিসেবে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেও তৎকালীন প্রশাসন তার বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু কোনো মিথ্যা প্রপাগান্ডা বা অপপ্রচার চালিয়ে এই জননন্দিত নেতাকে জনগণের ভালোবাসা থেকে দূরে রাখা যাবে না।’

এ ছাড়াও, নেতারা অবিলম্বে পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সরকারের আমলের সকল মিথ্যা মামলা খারিজ করার এবং নেতা-কর্মীদের হয়রানি বন্ধ করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

সমাবেশে উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও জেলা কর্মপরিষদের সদস্য এমাদুল ইসলাম বলেন, ‘বিগত আমলের প্রভাবশালীরা শত শত সুনির্দিষ্ট মামলা নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও প্রশাসন তাদের ধরছে না; অথচ এক যুগ আগের পুরোনো রাজনৈতিক মামলায় জামায়াত নেতাদের গ্রেফতার করতে প্রশাসন তৎপরতা দেখাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’