বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে যারা জুলাই সনদের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন, তারাই নির্বাচন শেষে সনদের বাস্তবায়ন প্রশ্নে ভিন্ন অবস্থান নিচ্ছেন। এ ধরনের দ্বিমুখী আচরণ জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তিনি বলেন, জুলাই সনদ কেবল একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, বরং দেশের জনগণের আকাক্সক্ষা ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের রূপরেখা। এর বাস্তবায়ন ছাড়া জনগণের প্রত্যাশিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। গতকাল শনিবার ভোলা জেলা জামায়াত কার্যালয়ে উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্যদের শিক্ষাশিবির শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, “নির্বাচনের আগে অনেক রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি জুলাই সনদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে, জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্য এটিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি হিসেবে উপস্থাপন করেছে। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তাদের অনেকেই সেই অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে। এটি রাজনৈতিক অসততা ও দ্বিচারিতার বহিঃপ্রকাশ।”

তিনি বলেন, জনগণ এখন আর শুধু প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না; তারা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চায়। রাজনৈতিক সংস্কার, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার জুলাই সনদে রয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে না পারলে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হবে। প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারের উপস্থাপিত বাজেট একটি উচ্চ বিলাসী ও বিদেশী ঋণনির্ভর বাজেট। এতে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে।

তিনি জানান, বাজেট ঘোষণার আগেই জামায়াতে ইসলামী একটি বিকল্প ‘ছায়া বাজেট’ প্রণয়ন করেছিল, যেখানে দেশীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, কর ব্যবস্থার সংস্কার, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুস্পষ্ট প্রস্তাব ছিল। কিন্তু সরকার সেসব সুপারিশকে গুরুত্ব দেয়নি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, “বৃহৎ বাজেট ঘাটতি পূরণ এবং রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সরকারের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে। ফলে অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ৩০ জুন বাজেট চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে জনগণের মতামত বিবেচনায় নিয়ে এটি সংশোধন করা প্রয়োজন।” ব্যাংকিং খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা নানা অনিয়ম ও সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়, প্রায় সব ব্যাংকেই সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে। তিনি ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ভোলা জেলা জামায়াতের আমীর মো. জাকির হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হারুন অর রশিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুআজ্জেম হোসাইন হেলাল, ভোলা জেলা তদারককারী এ কে এম ফখরুদ্দীন উদ্দিন খান রাজী, জেলা নায়েবে আমীর ও জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নজরুল ইসলাম। শিক্ষাশিবিরে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলার সাতটি উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্যগণ।