মানুষ শান্তি চায়, শান্তি চায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণও। তবে এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে শাসকদের দম্ভ ও ত্রুটিপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তিতে কি তেমন ছায়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুবাই থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধে একটি শান্তিচুক্তির জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও সংকট কাটছে না। প্রথমে লেবাননে ইসরাইলের হামলার কারণে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছিল। ফলে দেরিতে শুরু হয়েছিল আলোচনা। এখন ইরানে পরমাণু কর্মসূচি ও জব্দ করা অর্থ ছাড় নিয়ে আবার দেখা দিচ্ছে মতবিরোধ। ফলে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে শঙ্কা। উল্লেখ্য, প্রথম দফার আলোচনায় হরমুজ প্রণালি, ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড়, ইরানের জ¦ালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়। ওই আলোচনা সফল হয়েছিল বলে জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান- দুই দেশই। বাস্তবেও এর প্রতিফলন দেখা যায়। আলোচনার পর ইরানের জ¦ালানি তেল বিক্রির ওপর ৬০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় মার্কিন অর্থমন্ত্রণালয়।
এমন অগ্রগতির পরও বিরোধের বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন প্রেডিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের বিভিন্ন বক্তব্যে আপত্তি জানিয়েছে তেহরান। যেমন মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, আলোচনা ভালো চলছে। ইরান তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রবেশের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু ইরানের ভাষ্য, প্রথম ধাপের আলোচনায় পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো কথা হয়নি। আর জাতিসংঘের আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকের ইরানের প্রবেশের বিষয়ে সম্মতি দেয়নি তারা।
ইরানের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি গত বুধবার বলেছেন, জাতিসংঘের পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকারের বিষয়টি কেবল একটি চূড়ান্ত চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই বিবেচনা করা হবে। বিরোধের আর একটি বিষয় হলো, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের অর্থ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প বলেছেন, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের অর্থ ছাড়ের পর সেই অর্থ শুধু যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী কিনতে ব্যবহার করতে পারবে তেহরান। কিন্তু জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী বাহরেইনি বলেছেন, ওই অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে সিদ্ধান্ত ইরান নিজেই নেবে।
এ সবের বাইরে লেবাননে ইসরাইলের যুদ্ধ, চুক্তির পথে একটি বড় বাধা হয়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোয় ইসরাইলি বাহিনী লেবাননে আগ্রাসনের মাত্রা কমালেও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে দখলকরা জায়গাগুলো তারা কবে ছাড়বে, সেটি পরিষ্কার নয়। এ বিষয়ে আলী বাহরেইনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইলকে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে, তা হবে চুক্তির লংঘন। এছাড়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান ৬০ দিনের জন্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে। তবে মঙ্গলবার ইরান ও ওমান জলপথটিতে তাদের সার্বভৌমত্বের কথা উল্লেখ করে বলেছে, হরমুজ দিয়ে যাতায়াত ও সংশ্লিষ্ট খরচের ব্যবস্থাপনায় তারা একসঙ্গে কাজ করবে। এ ব্যাপারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায় করতে দেওয়া হবে না। ফলে উপলব্ধি করা যায়, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় পরাশক্তির দাম্ভিক বাতাবরণে সঙ্গত কোনো চুক্তি সম্পাদন বেশ কঠিন।