দেশে অরাজকতা, শিশু নির্যাতন ও সীমান্ত সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিদ্যমান থাকলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসলামী ব্যাংক ইস্যু নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করছে, বলে অভিযোগ তুলেছেন এবং সরকারের প্রতি এসব জাতীয় সমস্যা সমাধানে অধিক মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
গতকাল বুধবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহি পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড.মুহাম্মদ রেজাউল করিম। উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদি।
সেলিম উদ্দিন বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইসলামী ব্যাংক সম্পর্কে যে মন্তব্য করা হয়েছে তা দুঃখজনক। তিনি অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত ছাড়াই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে করা মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে তথ্যভিত্তিক বক্তব্য দেয়া উচিত।
তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে অস্থিরতা সৃষ্টি করা বা নেতিবাচক বার্তা দেয়া দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ইসলামী ব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়লে তার প্রভাব জাতীয় অর্থনীতির ওপর পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সেলিম উদ্দিন বলেন, পুশ-ইন ইস্যু বর্তমানে একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে সব রাজনৈতিক শক্তিকে সম্পৃক্ত করে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে সময় নষ্ট না করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা উচিত।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের গাণিতিক হিসাব নয়; এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। করের হার বৃদ্ধি না করে কর ফাঁকি রোধের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির নামে অতীতে ব্যাপক অপচয় ও লুটপাট হয়েছে। এসব অনিয়ম বন্ধ করে বাজেটের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
ঢাকা উত্তরের একজন নাগরিক হিসেবে তিনি বলেন, প্রতি বর্ষায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়। সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি ও সমন্বয়হীন উন্নয়ন কর্মকা-ের কারণে এই সমস্যা আরও তীব্র হয়েছে। বাজেটের সঠিক ব্যবহার ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে রাজধানীকে জলাবদ্ধতা থেকে অনেকাংশে মুক্ত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সেলিম উদ্দিন বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন না হওয়ায় নগরবাসী প্রত্যাশিত সেবা ও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে নগর পরিচালনা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে একটি শক্তিশালী ও গঠনমূলক বিরোধী দলের প্রয়োজন রয়েছে। উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও এখন একটি কার্যকর বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
জনগণের আমানতের প্রতিষ্ঠানকে কোনোভাবেই ‘ডাকাতের হাতে’ তুলে দিতে দেয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর ও ডিএনসিসি মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
গতকাল বুধবার দুপুরে কারওয়ান বাজারের একটি রেস্তোরাঁয় প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, দেশের আর্থিক খাতেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে নানা অনিশ্চয়তা তৈরি করা হচ্ছে। তবে জনগণের আমানতের প্রতিষ্ঠানকে কোনোভাবেই ‘ডাকাতের হাতে’ তুলে দিতে দেয়া হবে না”।
এ সময় জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের মাধ্যমে সমাজের ভুল-ত্রুটি ও অনিয়ম তুলে ধরেন, যা নগর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিরপেক্ষ ও অনুসন্ধানী দৃষ্টিভঙ্গিতে পর্যবেক্ষণ করলে জামায়াতের জনকল্যাণমূলক কর্মকা-ের বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে নগর জীবনের সমস্যা ও অসঙ্গতিগুলো গণমাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরা হলে সেগুলোর সমাধানে জামায়াত ঢাকা মহানগর উত্তর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে।
বাজেট প্রসঙ্গে সেলিম উদ্দিন বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে দুর্নীতির ছাপ স্পষ্ট হলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জনগণের প্রত্যাশা ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে একটি জনবান্ধব বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারে না থেকেও জামায়াতে ইসলামী শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।
ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের প্রচার-মিডিয়া বিভাগের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকারের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদি।