বিবিএস’র জরিপ প্রকাশ -

# মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সাময়িক হিসাব মতে, দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা (৩,০২০ মার্কিন ডলার), যা আগের অর্থবছরের ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫১১ টাকা (২,৭৬৯ ডলার) থেকে ৩৪ হাজার ৩৬২ টাকা বেশি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে চলতি মূল্যে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। যা মার্কিন ডলারে প্রায় ৫০১ বিলিয়ন বা অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলার। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা (৪৫৬ বিলিয়ন ডলার)।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সাময়িক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিকে প্রকাশিত জরিপে জিডিপির সঙ্গে বিনিয়োগের অনুপাত কমে দাঁড়িয়েছে ২৭.৯৩ শতাংশ, যা আগের বছর ছিল ২৮.৫৪ শতাংশ। একইভাবে দেশজ সঞ্চয় কমে ২১.৩৮ শতাংশ এবং জাতীয় সঞ্চয় কমে ২৬.৯৩ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ‘প্রবৃদ্ধি বাড়লেও বিনিয়োগ ও সঞ্চয় কমে যাওয়ার বিষয়টি অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের ইঙ্গিত বহন করে।’

বিবিএস-এর তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাময়িকভাবে ৪.১৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৩.৪৯ শতাংশের তুলনায় কিছুটা বেশি। তবে প্রবৃদ্ধির এই ইতিবাচক হারের বিপরীতে বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা গেছে নি¤œমুখী প্রবণতা।

জিডিপির আকার ৫০১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়া প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, ‘জিডিপির আকার ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি অবশ্যই ইতিবাচক দিক। এটি ইঙ্গিত দেয় যে অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। তবে শুধুমাত্র আকার বৃদ্ধির দিকে না তাকিয়ে দেখতে হবে এই প্রবৃদ্ধির সুফল কতটা বিস্তৃত হচ্ছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিনিয়োগকারীরা সাধারণত এমন পরিবেশ খোঁজেন যেখানে স্থিতিশীলতা রয়েছে।’

জিডিপি প্রবৃদ্ধি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সার্বিকভাবে প্রবৃদ্ধি বাড়াও ভালো লক্ষণ, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা, যা টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কর্মসংস্থানমুখীÍবিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের মাধ্যমে।’

খাতভিত্তিক প্রবৃদ্ধিতে দেখা যায়, কৃষি খাতে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২.৭৮ শতাংশ, যা আগের বছরের ২.৪২ শতাংশের তুলনায় ০.৩৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়েছে। সাময়িক হিসাবে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২.৮৬ শতাংশ, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৩.৭১ শতাংশের তুলনায় ০.৮৫ শতাংশ কম।

সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪.৫৯ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ৪.৩৫ শতাংশ থেকে ০.২৪ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। ‘ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগের ধীরগতি এবং ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে নেতিবাচক প্রবণতা নীতি-নির্ধারকদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। কারণ এই খাতগুলোই অর্থনীতির ড্রাইভিং ফোর্স হিসেবে কাজ করে।’

প্রবৃদ্ধির সঙ্গে কর্মসংস্থানের সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে বলা হয় ‘প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর প্রধান মাধ্যম হচ্ছে কর্মসংস্থান। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, প্রবৃদ্ধির হার অনুযায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না, বিশেষ করে শিল্প ও সেবা খাতে। ফলে প্রবৃদ্ধি হলেও এর সুফল সবার কাছে পৌঁছাচ্ছে না।’তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে এমন প্রবৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিতে হবে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং আয় বৈষম্য কমাতে সহায়ক হয়।’