সরকারের উপস্থাপিত বিশাল আকারের বাজেটে জন আকাক্সক্ষার প্রতিফলন নেই” বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

গতকাল শুক্রবার জামায়াতে ইসলামী চকবাজার - বংশাল জোনের সদস্য (রুকন) শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি সরকারের উপস্থাপিত বাজেট সংশোধন করে জনকল্যাণকর বাজেট পাস করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সরকার যেই বিশাল আকারের বাজেট উপস্থাপন করেছে সেই বাজেট গণবিরোধী ও লুটপাটের বাজেট।এই বাজেট কেবলই দলীয় কর্মী লালনের বাজেট। তিনি বলেন, উপস্থাপিত বাজেটে যেসব পণ্যের দাম কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে সেসব পণ্য ধনীদের ভোগ-বিলাসের পণ্য। সাধারণ জনগণের নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ পণ্যের দাম কমানোর প্রস্তাব করা হয়নি। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, সরকার বাজেটে এটিএম মেশিন, আয়রন মেশিন, ওভেন মেশিন সহ যেসব জিনিসের দাম কমানোর প্রস্তাব করেছে সেগুলো জনগণের জীবনমানের সঙ্গে বৃহৎ স্বার্থ বহন করে না। জনগণের জীবনমানের সঙ্গে বৃহৎ স্বার্থ বহন করে এমন পণ্যের দাম কমানোর প্রস্তাব সরকার করেনি।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “সরকার জাতির সাথে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে দেশকে সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে”। নির্বাচনের আগে আজকের প্রধানমন্ত্রী জাতিকে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানালেও সরকার গঠনের পর বিএনপি গণভোটের রায় মেনে নেয়নি। তারা গণভোটকে অসাংবিধানিক দাবি করছে। তবে, সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপির দেওয়া নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) মেনে নিলে তারা গণভোট মেনে নেবে বলেও স্বীকারোক্তি দিচ্ছে! সরকারের দ্বিচারিতা আচরণ জাতির সাথে প্রতারণার শামিল। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের আপত্তির অন্যতম কারণ হচ্ছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সরকার রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করতে পারবে না, ব্যাংক-বীমা দখল দিতে পারবে না, প্রশাসনকে দলীয় লাঠিওয়াল বাহিনী বানাতে পারবে না। আওয়ামী লীগের পুরোনো ব্যবস্থায় সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে পুরোনো ফ্যাসিজম পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে।

ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ যাদের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক দখল করে লুটপাট করেছে বিএনপিও তাদের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ইসলামী ব্যাংক ধ্বংস হলে এদেশের অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক এদেশের অর্থনীতিতে যেই অবদান রেখেছে সেই অবদান অব্যাহত রাখতে হলে ইসলামী ব্যাংক থেকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর এস আলমের সহযোগীদের অপসারণ করতে হবে। দুর্নীতি মুক্ত, সৎ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করতে হবে। এবং একজন সৎ ও দক্ষ ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দিতে হবে।

জামায়াতে ইসলামী দমন-পীড়নের শিকার হয়ে সব ধাপ অতিক্রম করে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুতরাং দমন-পীড়নের ভয় জামায়াতে ইসলামীকে দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না, যায় না। জামায়াতে ইসলামীকে নির্মল করার চিন্তা বাদ দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারকে মনোযোগী হতে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুবা জনগণ রাজপথে নামলে আবারো দেশ ছাড়া হতে হবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি, চকবাজার - বংশাল জোন পরিচালক দেলাওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিক্ষা শিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল যথাক্রমে মাওলানা এটিএম মা’ছুম এবং মাওলানা আবদুল হালিম। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর জননেতা মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি।

চকবাজার-বংশাল জোনের সহকারী পরিচালক এস. এম আহসান উল্লাহ’র পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা শিবিরে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি যথাক্রমে ড. আব্দুল মান্নান এবং শামসুর রহমান।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বংশাল দক্ষিণ থানা আমীর মাহাবুব আলম ভুঁইয়া, চকবাজার দক্ষিণ থানা আমীর মো. আনিছুর রহমান, চকবাজার উত্তর থানা আমীর মাওলানা মাহফুজুর রহমান, বংশাল পশ্চিম থানা আমীর মাওলানা বিলাল হোসাইন, চকবাজার পূর্ব থানা আমীর মো. রফিকুল ইসলাম সিকদার, চকবাজার পশ্চিম থানা আমীর মো. আবুল হোছাইন রাজন প্রমুখ। এছাড়াও চকবাজার - বংশাল জোনের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রাশিয়ার জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে জামায়াত নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ

রাশিয়ার জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেছেন।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর হোটেল ‘লে মেরিডিয়ান ঢাকা’র স্কাই বলরুমে ঢাকাস্থ রাশিয়ান দূতাবাসের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, কূটনীতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকাস্থ রাশিয়ান ফেডারেশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ইন্টারিম মান্যবর ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিন-এর আমন্ত্রণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, আমীরে জামায়াতের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে জামায়াত প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রাশিয়ান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর উদ্দেশে প্রেরিত একটি শুভেচ্ছা বার্তা হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গেছে।

সাক্ষাতে রাশিয়ার জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনা করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এ সময় মিয়া গোলাম পরওয়ার বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।